মুনা, রাফি ও জনি বসে বসে ভাবছে, আজকে টিফিন পিরিয়ডে কী খেলা যায়। এমন সময় মুনা বললো, “আমি নানু বাসায় এইবার একটি নতুন খেলা শিখেছি, গোল্লাছুট। চলো আজকে ঐটাই খেলি।”
রাফি একটু অবাক হয়ে বললো, “গোল্লাছুট! এটা আবার কেমন খেলা?”
জনি গোল্লাছুটের ব্যাপারে আগে থেকে জানত। তাই সে হেসে বললো, “এইটা মজার একটা খেলা, রাফি। তবে এই খেলা খেলতে আমাদের আরো কয়েকজন খেলোয়াড় লাগবে।”
তারা তাদের বাকি বন্ধুদের গোল্লাছুট খেলার জন্য ডাকল। মোট ১০ জন খেলোয়াড়। প্রতিটা দলে ৫ জন।
জনি মাঠের মাঝখানে বড় একটি বৃত্ত আঁকল যেনো ৫ জন অনায়াসে সেই বৃত্তের ভেতরে দাঁড়তে পারে। আর মুনা বৃত্ত থেকে ২৫/৩০ ফুট দূরে একটি রেখা টেনে দিল।
মুনা বললো, “প্রতিটা দলে একজন ‘বুড়ি’ (দলনেতা) থাকবে। দলের অন্য সদস্যরা বৃত্ত থেকে বেরিয়ে রেখার ঐপাড়ে চলে যাওয়ার পর বুড়ি বৃত্ত থেকে বেরিয়ে রেখার ঐপাড়ে যাবে।”
জনি বললো, “খেলার আরো একটি নিয়ম আছে। আমি আস্তে আস্তে তোমাদেরকে সেইটা জানাব। এসো তাহলে টিম সিলেক্ট করি। এক টিমে আমি বুড়ি হই, আরেক টিমে মুনা।”
মুনা বলল, “আমরা কয় রাউন্ড খেলব?”
জনি বললো, “টিফিনের সময় যেহেতু বেশি না, তাই ৩ রাউন্ড খেলি।”
মুনা বললো, “ঠিক আছে, তাহলে শুরু করা যাক!”
মুনার দলকে প্রথমে খেলার সুযোগ দেওয়া হলো। দলের সকলকে নিয়ে বৃত্তের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে মুনা। বুদ্ধি করে সকলে একসাথে দৌড়ে রেখার ঐপাড়ে যাওয়ার চেষ্টা করলো।
জনির দল যখন মুনার দলের অন্যদের ধরতে ব্যস্ত, তখন সুযোগ বুঝে মুনাও রেখার ঐপাড়ে চলে গেলো। এভাবে মুনার দল এক পয়েন্ট পেয়ে গেলো।
এবারে জনির দলের খেলা। খেলার শুরুতেই জনি সকলের কানে কানে কী যেনো বলে দিল।
জনি বাদে তার দলের সকলে রেখার ঐপাড়ে পৌঁছে গেছে। এদিকে মুনার দল জনিকে বেশ ভালোভাবে ঘেরাও করে রেখছে। জনি কিছুতেই বৃত্তের ভেতর থেকে বের হতে পারছে না।
এবারে জনির দলের খেলোয়াড়রা একে অপরের হাত ধরে একটি লম্বা চেইন তৈরি করলো। চেইনের বাহিরের প্রান্তের আছে শিপলু, আর ভেতরের প্রান্তে রুমি।
রুমি এক পা রেখার ভেতরে রেখেছে যেনো মুনার দল তাদের ছুঁতে না পারে। বরং তারা মুনার দলকে ছুঁয়ে দিলে মুনার দল হেরে যাবে। এভাবে জনির দল মুনার দলকে তাড়া করতে লাগলো।
এবারে বৃত্ত থেকে বুড়িকে (জনিকে) বের করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিলো শিপলু।
জনি শিপলুর হাত ধরে ঘর থেকে বের হলো, এরপর সুযোগ বুঝে দৌড়ে রেখার ঐপাড়ে চলে গেলো এবং তারাও এক পয়েন্ট পেয়ে গেলো।
প্রথম রাউন্ড খেলা হতেই টিফিনের ঘণ্টা পড়ে গেলো। গোল্লাছুট খেলা তাদের এতই পছন্দ হয়েছে যে, খেলা ছেড়ে ক্লাসের যেতে তাদের সবার খুব মন খারাপ হচ্ছিল।
এমন সময় মুনা বললো, “বন্ধুরা… তোমরা তো গোল্লাছুট খেলার নিয়ম শিখেই গেছো। এখন থেকে আমরা প্রতিদিন গোল্লাছুট খেলবো।”
মুনার এই প্রস্তাব সবাই খুব পছন্দ করলো এবং খুশি মনে ক্লাসে গেলো।