মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর ইবাদাত করার জন্য মানুষ সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নিলেন।
এক জুম’আর দিনে মহান আল্লাহ মাটির সকল উপাদানের সার-নির্যাস একত্রিত করে আঠালো ও পোড়ামাটির মতো শুষ্ক মাটি দিয়ে সুন্দরতম একটি অবয়ব তৈরি করলেন।
এরপর মহান আল্লাহ সেই অবয়বে রূহ ফুঁকে দিলেন। এভাবেই বিশ্বের প্রথম মানুষ ও নবী হযরত আদম (আলাইহিস সালাম)-এর জন্ম হলো।
অতঃপর মহান আল্লাহ আদম (আ.)-এর দেহ থেকে তাঁর স্ত্রী বিবি হাওয়াকে সৃষ্টি করলেন। তাই হযরত আদম (আলাইহিস সালাম) ও বিবি হাওয়ার কোনো পিতামাতা নেই।
প্রায় এক হাজার বছর বেঁচে থাকার পর এক জুম’আ বারে হযরত আদম (আ.) মৃত্যু বরণ করেন। পৃথিবীর প্রথম মানুষ আদম (আ.) হলেও, বিশ্বের প্রথম মৃত্যু কিন্তু তাঁর হয়নি।
বিশ্বের প্রথম মৃত ব্যক্তি হচ্ছেন হযরত আদম (আ.)-এর ছেলে হাবীল।
তথ্য:
১। আস সাজদাহ ৩২/৭-৯
২। সূরা আল বাকারা (আয়াত ২৮-৩৪)
৩। মুওয়াত্ত্বা, আবুদাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ, মিশকাত হা/১৩৫৯; সনদ ছহীহ, ‘ছালাত’ অধ্যায় ‘জুম‘আ’ অনুচ্ছেদ।
৪। নিসা ৪/১; মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩২৩৮ ‘বিবাহ’ অধ্যায় ‘নারীদের সাথে সদ্ব্যবহার’ অনুচ্ছেদ। আদম এর মূল উপাদান হ’ল মাটি, তাই তাকে ‘আদম’ বলা হয়। পক্ষান্তরে হাওয়ার মূল হ’লেন আদম, যিনি তখন জীবন্ত ব্যক্তি। তাই তাকে ‘হাওয়া’ বলা হয়, যা ‘হাই’ (জীবন্ত) থেকে উৎপন্ন (কুরতুবী), বাক্বারাহ ৩৫; আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ১/৬২ পৃঃ।
৫। মুওয়াত্ত্বা, আবুদাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ, মিশকাত হা/১৩৫৯; সনদ ছহীহ, ‘ছালাত’ অধ্যায় ‘জুম‘আ’ অনুচ্ছেদ।
৬। তিরমিযী, মিশকাত হা/১১৮ ‘তাক্বদীরে বিশ্বাস’ অনুচ্ছেদ; সনদ ছহীহ, তিরমিযী হা/৩০৭৬ ‘তাফসীর সূরা আ‘রাফ’। একই হাদীছ মিশকাত হা/৪৬৬২ ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায় ‘সালাম’ অনুচ্ছেদে এসেছে। যেখানে ‘আদম তার বয়স থেকে ৬০ বছর দান করেন’ বলা হয়েছে। তিরমিযী হাদীছটিকে ‘হাসান গরীব’ বলেছেন ছাহেবে মিরক্বাত ও ছাহেবে তোহফা উভয়ে বলেন যে, ‘৪০ বছর দান করার হাদীছ অগ্রগণ্য (الأرجح)। দ্রঃ তুহফাতুল আহওয়াযী হা/৫০৭২-এর ব্যাখ্যা।