হযরত নূহ (আলাইহিস সালাম)

হযরত আদম (আ.)-এর জন্মের পর দশ শতাব্দী কেটে যায়। ধীরে ধীরে মানুষ মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাকে ভুলে যেতে শুরু করে এবং শিরক ও কুসংস্কারে জড়িয়ে পড়ে।

এমন সময় মানুষকে সত্যের পথে ফিরিয়ে আনতে মহান আল্লাহ আমাদের প্রথম রাসূল হযরত নূহ (আলাইহিস সালাম)-কে পৃথিবীতে পাঠান।

চল্লিশ বছর বয়সে নবুয়ত লাভের পর নূহ (আ.) তাঁর জাতিকে (কওম) এক আল্লাহর ইবাদত করতে বলতেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, খুব অল্প মানুষই তাঁর কথা শুনেছিলো।

একদিন নূহ (আ.)-এর নিকট মহান আল্লাহ একটি বড় নৌকা বানানোর ওহি পাঠালেন। অনেক ঠাট্টা-বিদ্রূপ সহ্য করে নূহ (আ.) নৌকাটি বানালেন।

অবশেষে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার শাস্তির দেওয়ার দিন আসলো। নূহ (আ.)-এর নিকট আবারো ওহি আসলো, “ঈমানদার ব্যক্তি এবং প্রতিটি প্রাণীর এক জোড়া জাহাজে তোলো।”

প্রচণ্ড বন্যা শুরু হলো। সমুদ্রের সমান এক একটা ঢেউ উঠলো। যারা ঈমান এনেছিল, তারা নৌকায় উঠে বেঁচে গেল।

আর যারা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাকে অবিশ্বাস করেছিলো, তারা পানিতে ডুবে গেলো।

নূহ (আ.)-এর চার পুত্র সন্তানের মধ্যে সাম, হাম, ইয়াফিছ নৌকায় ছিলেন তাই তারা বেঁচে গিয়েছিলেন। কিন্তু ইয়াম অথবা কেন‘আন ঈমান আনেনি। তাই সে বন্যায় ডুবে গিয়েছিলো।

বন্যা শেষ হওয়ার পর নূহ (আ.) ৬০ বছর বেঁচে ছিলেন। ইতিমধ্যে তাঁর ঈমানদার সন্তানদের বংশ থেকেই পৃথিবীতে আবার মানুষ ছড়িয়ে পড়ে। তাই নূহ (আ.)-কে “মানবজাতির দ্বিতীয় পিতা” বলা হয়।

হযরত নূহ (আ.) প্রায় ৯৫০ বছর বেঁচেছিলেন।


তথ্য:
১। ইবন হিব্বান, সহিহ ইবন হিব্বান, কিতাবুত তারিখ / বাদউল খালক (সৃষ্টি বিষয়ক অধ্যায়), হাদিস নং ৬১৯০ (প্রায়)।
২। মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৫৫৭২, ‘ক্বিয়ামতের অবস্থা’ অধ্যায় ‘হাউয ও শাফা‘আত’ অনুচ্ছেদ।
৩। কুরতুবী, সূরা আনকাবূত ১৪ আয়াতের ব্যাখ্যা।
৪। তিরমিযী হা/৩২৩০-৩১; আলবানী সনদ ‘যঈফ’ বলেছেন; আহমাদ হা/১৯৯৮২ তাহকীকঃ হামযাহ আহমাদ; হাকেম ২/৫৪৬ পৃঃ; তিনি একে ‘ছহীহ’ বলেছেন ও যাহাবী তাকে সমর্থন করেছেন।
৫। সূরা হুদ, আয়াত (৩৬-৪৩) এবং সূরা আল আ’রাফ, আয়াত (৫৯) – আল কুরআন সহজ ভাবানুবাদ, শাঈখ হাসান মাহফুজ (অনুবাদক)
৬। মুসলিম হা/৩২৭ ‘ঈমান’ অধ্যায় ৮৪ অনুচ্ছেদ। রাবী আবু হুরায়রা (রাঃ)।
৭। ইমাম হাকিম নিশাপুরি, আল-মুস্তাদরাক ‘আলাস সহিহাইন, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৪৬; ইমাম হাকিম বলেন, “হাদিসটি সহিহ, বুখারির শর্ত অনুযায়ী।”
৮। কুরতুবী, ইবনু কাছীর; সূরা আনকাবূত ১৪-১৫ আয়াত।
৯। (আনকাবূত ২৯/১৪)