নবী পরিচিতি
পুরো নাম: হযরত হারুন (আলাইহিস সালাম)
পরিচয়: নবী ও রাসুল
উপাধি: মুসা (আ.)-এর সহকারী নবী
জন্মস্থান: মিশর
পিতার নাম: ইমরান
মাতার নাম: ইউখাবিদ
পরিবার: ভাই – মুসা (আ.)
আসমানি কিতাব: নেই
যাদের কাছে প্রেরিত: বনি ইসরাইল
কুরআনে উল্লেখ: প্রায় ২০ বার
সময়কাল: প্রাচীন মিশরের সময়
এক লাইনে পরিচয়
হযরত হারুন (আ.) ছিলেন সেই নবী, যিনি ফেরাউন ও তার জাতিকে এক আল্লাহর ইবাদতের দাওয়াত দিতে মুসা (আ.)-কে সাহায্য করেছিলেন।
আল্লাহ কেনো তাঁকে নবী বানালেন?
সেই সময় ফেরাউন নামে এক অত্যাচারী শাসক ছিল। সে নিজেকে সর্বোচ্চ প্রভু দাবি করত। ফেরাউন ও তার প্রজাদের সত্যের পথে ফিরিয়ে আনতে মহান আল্লাহ মুসা (আ.)-কে রাসুল হিসেবে পাঠান।
এমন সময় মুসা (আ.) আল্লাহর কাছে কিছু দোয়া চাইলেন, এর মধ্যে একটিতে তিনি তাঁর ভাই হারুন (আ.)-কে তাঁর সাহায্যকারী হিসেবে চাইলেন।
মহান আল্লাহ মুসা (আ.)-এর দোয়া কবুল করলেন এবং হারুন (আ.)-কে রাসুল বানালেন।
ছোটবেলার গল্প
সিনাই পর্বতে নবুয়ত লাভের পূর্বে মুসা (আ.) ৪০ দিন তাঁর জনপদ থেকে দূরে ছিলেন। এই সময় তিনি হারুন (আ.)-কে বনি ইসরাইলদের দেখাশোনার দায়িত্ব দেন।
এর মধ্যে সামেরির প্রভাবে কিছু মানুষ একটি লাল বাছুরের পূজা করতে শুরু করে। মুসা (আ.) ফিরে এসে এই ঘটনা দেখে রেগে যান এবং একই সাথে ভীষণ কষ্ট পান।
রাগে তিনি হারুন (আ.)-এর চুল ধরে টানতে থাকেন। হারুন (আ.) ভাইকে আশ্বস্ত করেন যে, তিনি ইসলাম বিরোধী কোনো কাজ করেননি।
অতঃপর মুসা (আ.) মহান আল্লাহর কাছে নিজের ও হারুন (আ.)-এর জন্য ক্ষমা চাইলেন।
বিশেষ মুজিযা
১। তিনি মুসা (আ.)-এর সাহায্যকারী ছিলেন।
২। তিনি খুব সুন্দরভাবে কথা বলতে পারতেন, যা মানুষকে বোঝাতে সাহায্য করত।
শিশু মনের জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন ১: তিনি কেনো মুসা (আ.)-এর সাথে ছিলেন?
উত্তর: কারণ মহান আল্লাহ তাঁকে মুসা (আ.)-কে সাহায্য করার জন্য নবী বানিয়েছিলেন।
প্রশ্ন ২: তাঁর জন্য সবচেয়ে কঠিন কী ছিল?
উত্তর: মানুষকে সঠিক পথে রাখা একটি বড় দায়িত্ব ছিল, বিশেষ করে যখন তারা অবাধ্য হতো।
প্রশ্ন ৩: এটা কি সত্য ঘটনা?
উত্তর: এই ঘটনাগুলো আল কুরআনে বর্ণিত আছে, যা মুসলমানদের কাছে সত্য।
প্রশ্ন ৪: হারুন (আ.) কীভাবে মারা গিয়েছিলেন?
উত্তর: তিনি দীর্ঘ জীবন কাটিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাঁর জন্য উচ্চ মর্যাদা রেখেছেন।
হারুন (আ.) আমাদের কী শিখিয়েছেন?
১। সহযোগিতা — ভাইয়ের সাথে একসাথে কাজ করা
২। ধৈর্য — কঠিন পরিস্থিতিতেও ধৈর্য ধরা
৩। নিষ্ঠা — নিষ্ঠার সাথে মানুষকে ইসলামের পথে ডাকা
কুরআনে কোথায় পাব?
১। মুসা (আ.)-এর সাথে ঘটনা → সূরা ত্বহা (২০)
২। ফেরাউনের সাথে দাওয়াত → সূরা আল আ‘রাফ (৭)
৩। বনি ইসরাইলের ঘটনা → সূরা আল বাকারা (২)
শিশুদের সাথে পড়ুন
সূরা ত্বহা, আয়াত (২৫-৩৬)
মজার তথ্য
১। তিনি মুসা (আ.)-এর বড় ভাই ছিলেন।
২। তিনি খুব সুন্দরভাবে কথা বলতে পারতেন।
৩। তিনি মুসা (আ.)-এর সাথে মানুষকে দাওয়াত দিতেন।
৪। মুসা (আ.) রাগে তাঁর চুল টানলেও তিনি তাঁর ভাইকে কিছু বলেননি।