নবী পরিচিতি
পুরো নাম: হযরত ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)
পরিচয়: নবী ও রাসুল
উপাধি: খলিলুল্লাহ (আল্লাহর বন্ধু)
জন্মস্থান: উর শহর (বর্তমান ইরাক অঞ্চল)
পিতার নাম: আজার
মাতার নাম: নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই
পরিবার: ২ ছেলে – ইসমাইল (আ.) ও ইসহাক্ব (আ.)
আসমানি কিতাব: সহিফা
যাদের কাছে প্রেরিত: তাঁর জাতির কাছে
কুরআনে উল্লেখ: প্রায় ৬৯ বার
সময়কাল: প্রাচীন যুগ
এক লাইনে পরিচয়
হযরত ইবরাহিম (আ.) ছিলেন সেই নবী, যিনি মহান আল্লাহর আদেশে নিজের সন্তানকে কুরবানি করতে রাজি হয়েছিলেন।
আল্লাহ কেনো তাঁকে নবী বানালেন?
সেই সময় মানুষ নিজেদের বানানো মূর্তির পূজা করত এবং আল্লাহকে ভুলে গিয়েছিল। মহান আল্লাহ এসকল পথভ্রষ্ট মানুষকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে চাইলেন।
তাই তিনি ইবরাহিম (আ.)-কে রাসুল হিসেবে পাঠালেন, যেনো তিনি মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের দাওয়াত দেন এবং মূর্তি পূজা থেকে বিরত রাখেন।
ছোটবেলার গল্প
হযরত ইবরাহিম (আ.) ছোটবেলা থেকেই খুব চিন্তাশীল ছিলেন। তিনি আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র, চাঁদ ও সূর্য দেখে ভাবতেন, এগুলো কি সত্যিই উপাস্য হতে পারে?
তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, এগুলো সবই সৃষ্টি; সৃষ্টিকর্তা নয়। এরপর তিনি তাঁর জাতির মানুষকে বোঝাতে শুরু করলেন।
একদিন তিনি বড় মূর্তিটি রেখে বাকি সব মূর্তি ভেঙে ফেললেন। যখন লোকেরা তাঁকে জিজ্ঞেস করল যে, মূর্তিগুলো কে ভেঙেছে? তিনি বললেন, “এই বড় মূর্তিটি ভেঙেছে। ওকে জিজ্ঞেস করো।”
এভাবে তিনি মানুষকে বুঝাতে চেয়েছিলেন যে, মূর্তিগুলো কিছুই করতে পারে না।
বিশেষ মুজিযা
১। ইবরাহিম (আ.)-কে আগুনে নিক্ষেপ করা হলেও তিনি অক্ষত থাকেন।
২। মহান আল্লাহর আদেশে তিনি মৃত পাখিকে জীবিত হতে দেখেছিলেন।
৩। ছেলে ইসমাইল (আ.)-কে নিয়ে ইবরাহিম (আ.) কাবা ঘর নির্মাণ করেন।
শিশু মনের জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন ১: আগুনে ফেলার পরও তিনি কীভাবে বেঁচে গেলেন?
উত্তর: মহান আল্লাহ আগুনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেনো তা ঠান্ডা ও শান্তিময় হয়ে যায়। তাই আগুন ইবরাহিম (আ.)-কে পোড়াতে পারেনি।
প্রশ্ন ২: তিনি কেনো মূর্তি ভেঙেছিলেন?
উত্তর: তিনি মানুষকে বুঝাতে চেয়েছিলেন যে, মূর্তিগুলো কোনো ক্ষমতা নেই।
প্রশ্ন ৩: তাঁর জন্য সবচেয়ে কঠিন কী ছিল?
উত্তর: নিজের সন্তানকে কুরবানি করার আদেশ পাওয়া ছিল ইবরাহিম (আ.)-এর জন্য সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। তবুও তিনি আল্লাহর আদেশ মানতে প্রস্তুত ছিলেন।
প্রশ্ন ৪: এটা কি সত্য ঘটনা?
উত্তর: এই ঘটনাগুলো আল কুরআনে বর্ণিত আছে, যা মুসলমানদের কাছে সত্য।
প্রশ্ন ৫: ইবরাহিম (আ.) কীভাবে মারা গিয়েছিলেন?
উত্তর: তিনি দীর্ঘ জীবন কাটিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাঁর জন্য উচ্চ মর্যাদা রেখেছেন।
ইবরাহিম (আ.) আমাদের কী শিখিয়েছেন?
১। আল্লাহর উপর ভরসা — কঠিন পরীক্ষাতেও মহান আল্লাহর উপর নির্ভর করেছেন
২। ত্যাগ — নিজের প্রিয় জিনিসও আল্লাহর জন্য ত্যাগ করতে প্রস্তুত ছিলেন
৩। সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো — ভুলের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন
৪। ধৈর্য — অনেক কষ্ট সহ্য করেও ইসলাম প্রচার করে গেছেন
কুরআনে কোথায় পাব?
১। মূর্তি ভাঙার ঘটনা → সূরা আল আম্বিয়া (২১)
২। আগুনের ঘটনা → সূরা আল আম্বিয়া (২১)
৩। কাবা ঘর নির্মাণ → সূরা আল বাকারা (২)
শিশুদের সাথে পড়ুন
সূরা আল আম্বিয়া, আয়াত (৫১-৭০)
মজার তথ্য
১। তাঁকে “খলিলুল্লাহ” বলা হয়, যার অর্থ আল্লাহর বন্ধু।
২। তিনি বহু নবীর পূর্বপুরুষ।
৩। কাবা শরীফ তাঁর মাধ্যমেই পুননির্মাণ করা হয়।
৪। কুরবানির ঈদের ঘটনা তাঁর জীবনের সাথে জড়িত।