হযরত শোয়াইব (আলাইহিস সালাম)

মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা হযরত শোয়াইব (আলাইহিস সালাম)-কে মাদিয়ানবাসীর জন্য রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। শোয়াইব (আ.)-এর জাতি আইকাবাসী নামেও পরিচিত।

একসময় মাদিয়ানবাসীরা মানুষ ঠকাতে শুরু করলো। তারা ক্রেতাদেরকে ওজন ও পরিমাপে কম জিনিস দিতো।

নবুয়ত লাভের পর শোয়াইব (আ.) এই প্রতারক জাতিদের ইসলাম গ্রহণ করতে বললেন। বললেন,

“তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত করো। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।”

তিনি আরো বললেন, “তোমরা সঠিক দাঁড়িপাল্লায় জিনিস পরিমাপ করো। দুনিয়ায় অনাচার করো না। কারো হক নষ্ট করো না। ন্যায্যপন্থায় আল্লাহ যা লাভ দিবেন, তোমাদের জন্য যথেষ্ট।”

মাদিয়ানের দাম্ভিক নেতারা শোয়াইব (আ.)-এর কথা মানলো না। বরং তারা আগের মতোই মূর্তিপূজা করতে থাকলো এবং তাঁকে বললো,

“তোমার নামাজে কি এই কথা বলে যে, আমরা বাপ-দাদাদের উপাস্য খোদার ইবাদত করবো না? আর আমাদের ধনসম্পদ আমরা নিজেদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করবো না?”

এছাড়াও পথভ্রষ্ট মাদিয়ানবাসীরা ঈমানদারদের হুমকি-ধামকি দিয়ে আল্লাহর পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে আনার জন্য রাস্তায় ওত পেতে থাকতো।

মূর্খ মাদিয়ানরা এতেও ক্ষান্ত হলো না। তারা একদিন শোয়াইব (আ.)-কে মিথ্যাবাদী বললো। তারা তাঁকে বললো,

“তোমার আত্মীয়স্বজনদের দিকে তাকিয়ে তোমাকে তারা ছেড়ে দিচ্ছি। নইলে তোমার উপর পাথর নিক্ষেপ করা হতো।”

অতঃপর একদিন মহান আল্লাহর আযাব নাযিল হলো। মাদিয়ানে বিকট শব্দে ভূমিকম্প হলো।

পাপাচারী মাদিয়ানরা নিজেদের ঘরে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকলো এবং ঈমানদার সাথীদের নিয়ে শোয়াইব (আ.) সেই অভিশপ্ত জনপদ থেকে চলে গেলেন।

তথ্য:
১। সূরা হুদ, আয়াত (৮৪-৯৫) – আল কুরআন সহজ ভাবানুবাদ, শাঈখ হাসান মাহফুজ (অনুবাদক)
২। সূরা আল আ’রাফ, আয়াত (৮৫-৯৩) – আল কুরআন সহজ ভাবানুবাদ, শাঈখ হাসান মাহফুজ (অনুবাদক)
৩। সূরা আশ শোয়ারা, আয়াত (১৭৬-১৯০) – আল কুরআন সহজ ভাবানুবাদ, শাঈখ হাসান মাহফুজ (অনুবাদক)
৪। সূরা তওবাহ ৯/৭০; হিজর ১৫/৭৮-৭৯; হজ্জ ২২/৪৪; ক্বাছাছ ২৮/২৩-২৮; আনকাবূত ২৯/৩৬-৩৭; ছোয়াদ ৩৮/১৩-১৫; ক্বাফ ৫০/১৪।