হযরত ইসহাক্ব (আলাইহিস সালাম)

নবী পরিচিতি

পুরো নাম: হযরত ইসহাক্ব (আলাইহিস সালাম)
পরিচয়: নবী
উপাধি: আল্লাহর নেক বান্দা
জন্মস্থান: কানআন (বর্তমান ফিলিস্তিন অঞ্চল)
পিতার নাম: হযরত ইবরাহিম (আ.)
মাতার নাম: বিবি সারাহ
পরিবার: ভাই – ইসমাইল (আ.); ছেলে – ঈছ ও ইয়াক্বুব (আ.)
আসমানি কিতাব: নেই
যাদের কাছে প্রেরিত: বনি ইসরাইল
কুরআনে উল্লেখ: প্রায় ১৭ বার
সময়কাল: প্রাচীন যুগ 

এক লাইনে পরিচয়

হযরত ইসহাক্ব (আ.) ছিলেন সেই নবী, যাঁর জন্ম বৃদ্ধ বয়সে তাঁর পিতা-মাতার জন্য একটি বিশেষ আনন্দের সুসংবাদ ছিল।

আল্লাহ কেনো তাঁকে নবী বানালেন?

মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সঠিক পথে রাখার জন্য ইবরাহিম (আ.)-এর বংশে নবীদের ধারাবাহিকতা চালু রাখেন। তাই তিনি ইসহাক্ব (আ.)-কে নবী হিসেবে মনোনীত করেন, যেনো তিনি মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের দাওয়াত দেন।

ছোটবেলার গল্প

হযরত ইসহাক্ব (আ.)-এর জন্ম ছিল একটি অলৌকিক ঘটনা। তাঁর পিতা ইবরাহিম (আ.) এবং মাতা সারাহ (আ.) তখন অনেক বয়স্ক ছিলেন।

একদিন ফেরেশতারা এসে তাঁদেরকে একটি সুখবর দেন যে তাঁদের একটি সন্তান হবে। এই খবর শুনে তাঁরা অবাক হয়ে যান, কারণ তাঁদের বয়স তখন অনেক বেশি ছিল।

অতঃপর মহান আল্লাহর ইচ্ছায় ইসহাক্ব (আ.) জন্মগ্রহণ করেন।

বিশেষ মুজিযা

১। মহান আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি বৃদ্ধ পিতা-মাতার ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।
২। তাঁর বংশ থেকেই বহু নবী এসেছেন।

শিশু মনের জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন ১: এত বয়সে কি সত্যিই সন্তান হতে পারে?
উত্তর: সাধারণভাবে এটি কঠিন, কিন্তু মহান আল্লাহর জন্য কিছুই অসম্ভব নয়। এটি একটি মুজিযা ছিল।

প্রশ্ন ২: তিনি কি তাঁর পিতার মতোই একজন নবী ছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনিও একজন নবী ছিলেন এবং মানুষকে এক আল্লাহর পথে ডাকতেন।

প্রশ্ন ৩: তাঁর জন্য সবচেয়ে বিশেষ কী ছিল?
উত্তর: তাঁর জন্মই ছিল একটি বিশেষ ঘটনা, যা মহান আল্লাহর অসীম ক্ষমতার প্রমাণ।

প্রশ্ন ৪: এটা কি সত্য ঘটনা?
উত্তর: এই ঘটনাগুলো আল কুরআনে বর্ণিত আছে, যা মুসলমানদের কাছে সত্য।

প্রশ্ন ৫: ইসহাক্ব (আ.) কীভাবে মারা গিয়েছিলেন?
উত্তর: তিনি দীর্ঘ জীবন কাটিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাঁর জন্য উচ্চ মর্যাদা রেখেছেন।

ইসহাক্ব (আ.) আমাদের কী শিখিয়েছেন?

১। আল্লাহর উপর ভরসা — আল্লাহ যা চান, তা-ই ঘটে
২। কৃতজ্ঞতা — আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ থাকা
৩। ঈমান — সব অবস্থায় আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখা

কুরআনে কোথায় পাব?

১। জন্মের সুসংবাদ → সূরা হুদ (১১)
২। ইবরাহিম (আ.)-এর পরিবার → সূরা ইবরাহিম (১৪)
৩। নবীদের ধারাবাহিকতা → সূরা মারিয়াম (১৯)

শিশুদের সাথে পড়ুন

সূরা হুদ, আয়াত (৬৯-৭৩)

মজার তথ্য

১। তাঁর জন্মের খবর ফেরেশতারা এনে দিয়েছিলেন।
২। তাঁর পিতা-মাতা তখন অনেক বয়স্ক ছিলেন।
৩। তাঁর ছেলে ইয়াক্বুব (আ.)-ও একজন নবী ছিলেন।
৪। তাঁর বংশ থেকে বহু নবী এসেছেন।