হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)

নবী পরিচিতি

পুরো নাম: হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
পরিচয়: নবী ও রাসুল
উপাধি: আল-আমিন (বিশ্বাসযোগ্য), রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর বার্তাবাহক), শেষ নবী (খাতামুন নবিয়্যিন)
জন্মস্থান: আরবের মক্কা শহর
পিতার নাম: আবদুল্লাহ
মাতার নাম: আমিনা
পরিবার: স্ত্রী – খাদিজা (রা.), আয়েশা (রা.) সহ একাধিক, সন্তান – ফাতিমা (রা.)
আসমানি কিতাব: আল কুরআন
যাদের কাছে প্রেরিত: সমগ্র মানবজাতির জন্য
কুরআনে উল্লেখ: নামসহ ৪ বার, পরোক্ষভাবে বহুবার
সময়কাল: ৫৭০-৬৩২ খ্রিস্টাব্দ

এক লাইনে পরিচয়

হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সেই নবী, যাঁর উপর মহান আল্লাহ আল কুরআন নাযিল করেছেন এবং যিনি পুরো পৃথিবীর জন্য রহমত হয়ে এসেছেন।

আল্লাহ কেনো তাঁকে নবী বানালেন?

সেই সময় আরবের মানুষ সত্য ভুলে গিয়েছিল। তারা এক আল্লাহর ইবাদত না করে নানান ধরনের মূর্তি পূজা করত এবং অনেক অন্যায় কাজে লিপ্ত ছিল।

মহান আল্লাহ তাদেরকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে চাইলেন। তাই তিনি মুহাম্মদ (সা.)-কে শেষ নবী হিসেবে পাঠালেন, যেনো তিনি মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের দাওয়াত দেন এবং সঠিক জীবনযাপনের পথ দেখান।

ছোটবেলার গল্প

জন্মের আগেই হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর পিতাকে হারান এবং ছয় বছর বয়সে মাতাকেও হারান। এরপর তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিব তাঁকে লালন-পালন করেন।

দুই বছর পর মহানবী (সা.)-এর দাদা মারা যান।এরপর তাঁর চাচা আবু তালিব তাঁকে নিজের সন্তানের মতো বড় করে তোলেন। ছোটবেলা থেকেই মুহাম্মদ (সা.) অত্যন্ত সৎ ও সত্যবাদী ছিলেন।

তিনি কখনো মিথ্যা বলতেন না এবং কারো সাথে অন্যায় করতেন না। মানুষ তাঁর উপর এতটাই বিশ্বাস করত যে, তারা নিজেদের মূল্যবান জিনিসও তাঁর কাছে রেখে দিত।

এজন্যই সবাই তাঁকে “আল-আমিন” বা “বিশ্বাসী” নামে ডাকত।

বিশেষ মুজিযা

১। মহান আল্লাহ ২৩ বছর ধীরে ধীরে মুহাম্মদ (সা.)-এর উপর কুরআন নাযিল করেন, যা আজও অপরিবর্তিত আছে।
২। মুহাম্মদ (সা.) তাঁর আঙুলের ইশারায় চাঁদকে দুই ভাগ হয়ে যেতে দেখান।
৩। তিনি হাতের আঙুলের মাঝখান থেকে ঝরনার মতো পানি বের করে অনেক সাহাবীর তৃষ্ণা মিটিয়েছিলেন।
৪। এক রাতে মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস এবং সেখান থেকে সাত আসমানে ঘুরে আসেন।

শিশু মনের জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন ১: চাঁদ কি সত্যিই দুই টুকরো হয়ে গিয়েছিল?
উত্তর: হ্যাঁ, আল্লাহর ইচ্ছায় এই ঘটনা ঘটেছিল। এটি একটি মুজিযা ছিল। নবীগণ যে সত্য, তা প্রমাণের জন্য মহান আল্লাহ তাঁদেরকে কিছু বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছিলেন, যাকে মুজিযা বলে।

প্রশ্ন ২: মানুষ কেনো মুহাম্মদ (সা.)-এর কথা মানেনি?
উত্তর: কিছু মানুষ তাদের পুরনো অভ্যাস ছাড়তে চায়নি। তারা মূর্তি পূজায় অভ্যস্ত ছিল এবং নিজেদের ভুল মানতে চাইত না।

প্রশ্ন ৩: মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্য সবচেয়ে কঠিন কী ছিল?
উত্তর: মানুষের বিরোধিতা সহ্য করা ছিল সবচেয়ে কঠিন। তাঁকে অনেক কষ্ট দেওয়া হয়েছে, তবুও তিনি ধৈর্য ধরে আল্লাহ হুকুম মেনেছেন, ইসলামের প্রচার চালিয়ে গেছেন।

প্রশ্ন ৪: এটা কি সত্য ঘটনা?
উত্তর: এই ঘটনাগুলো কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত আছে, যা মুসলমানদের কাছে সত্য।

প্রশ্ন ৫: মুহাম্মদ (সা.) কীভাবে মারা গেলেন?
উত্তর: তিনি মদিনায় অসুস্থ হয়ে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর আগে তিনি মানুষকে ভালো কাজ ও এক আল্লাহর ইবাদত করতে বলেছেন।

মুহাম্মদ (সা.) আমাদের কী শিখিয়েছেন?

১। সততা — সব সময় সত্য কথা বলেছেন
২। ধৈর্য — কষ্টের মধ্যেও হাল ছাড়েননি
৩। দয়া — মানুষদের প্রতি সদয় ছিলেন
৪। আল্লাহর উপর ভরসা — সব সময় আল্লাহর উপর নির্ভর করেছেন

কুরআনে কোথায় পাব?

১। নবুয়তের আলোচনা → সূরা আল আহযাব (৩৩)
২। চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়া → সূরা আল কামার (৫৪)
৩। দাওয়াত ও শিক্ষা → সূরা মুহাম্মদ (৪৭)

শিশুদের সাথে পড়ুন

সূরা আল কামার, আয়াত (১-৫)

মজার তথ্য

১। কুরআনে তাঁর নাম ৪ বার উল্লেখ আছে।
২। ২৩ বছরে কুরআন সম্পূর্ণ নাযিল হয়েছে।
৩। তিনি ৬৩ বছর বেঁচেছিলেন।
৪। তিনি শেষ নবী (খাতামুন নবিয়্যিন)।