হযরত ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)

নবী পরিচিতি

পুরো নাম: হযরত ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)
পরিচয়: নবী
উপাধি: আহসানুল কাসাসের নায়ক (সবচেয়ে সুন্দর কাহিনীর কেন্দ্র)
জন্মস্থান: কানআন (বর্তমান ফিলিস্তিন অঞ্চল)
পিতার নাম: হযরত ইয়াক্বুব (আ.)
মাতার নাম: রাহীল
পরিবার: ১১ ভাই – তাঁদের মধ্যে বিনইয়ামিন ছিলেন তাঁর আপন ভাই
আসমানি কিতাব: নেই
যাদের কাছে প্রেরিত: মিশরীয় ও বনি ইসরাইল
কুরআনে উল্লেখ: প্রায় ২৭ বার
সময়কাল: প্রাচীন মিশরের সময়

এক লাইনে পরিচয়

হযরত ইউসুফ (আ.)-কে ছোটবেলায় কূপে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু মহান আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি মিশরের একজন সম্মানিত শাসক হয়েছিলেন।

আল্লাহ কেনো তাঁকে নবী বানালেন?

সেই সময় মানুষ এক আল্লাহর ইবাদত থেকে, ইসলামের পথ থেকে দূরে সরে যাচ্ছিল। অনেকেই অন্যায় কাজ করত এবং সত্যকে গুরুত্ব দিত না।

মহান আল্লাহ মানুষকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে চাইলেন, তাই ইউসুফ (আ.)-কে নবী হিসেবে পাঠালেন। যেনো তিনি মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের শিক্ষা দেন।

ছোটবেলার গল্প

ইউসুফ (আ.) তাঁর বাবার সবচেয়ে প্রিয় সন্তান ছিলেন। তাই তার সৎ ভাইয়েরা হিংসা করে তাঁকে  একটি কূপে ফেলে দেয়। এরপর তারা তাঁদের বাবাকে মিথ্যা বলে যে, ইউসুফ (আ.)-কে নেকড়ে খেয়ে ফেলেছে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই কিছু পথিক সেই কূপ থেকে তাঁকে উদ্ধার করে এবং মিশরে বাজারে বিক্রি করে দেয়। ইউসুফ (আ.)-এর ক্রেতা তাঁকে নিজের সন্তানের মতো বড় করে তোলেন।

বিশেষ মুজিযা

১। মহান আল্লাহ ইউসুফ (আ.)-কে স্বপ্নের অর্থ বোঝার বিশেষ জ্ঞান দিয়েছিলেন।
২। তিনি কঠিন পরীক্ষায় ধৈর্য ধরে রাখতে পারতেন তাই অন্যায়ের শিকার হয়েও কখনো আল্লাহর উপর ভরসা হারাননি।
৩। তিনি দাস থেকে শাসক হওয়ার সম্মান অর্জন করেছিলেন।

শিশু মনের জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন ১: ভাইয়েরা কেনো তাঁকে কূপে ফেলেছিল?
উত্তর: তারা হিংসা করত, কারণ তাঁদের পিতা ইউসুফ (আ.)-কে বেশি ভালোবাসতেন। তাই তারা এই ভুল কাজটি করেছিল।

প্রশ্ন ২: কূপে কি তিনি একা ভয় পাননি?
উত্তর: কূপে নিক্ষেপের সময় তিনি ভয় পেয়েছিলেন। কিন্তু তৎক্ষণাৎ মহান আল্লাহ তাঁকে ওহি পাঠালেন, “ভয় পেও না…।” তাই তিনি আল্লাহর উপর ভরসা রেখেছিলেন।

প্রশ্ন ৩: ইউসুফ (আ.)-এর জন্য সবচেয়ে কঠিন কী ছিল?
উত্তর: মিথ্যা অপবাদে কারাগারে থাকা সবচেয়ে কঠিন ছিল। তবুও তিনি ধৈর্য ধরেছিলেন।

প্রশ্ন ৪: এটা কি সত্য ঘটনা?
উত্তর: এই ঘটনা আল কুরআনের সূরা ইউসুফ-এ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা মুসলমানদের কাছে সত্য।

প্রশ্ন ৫: ইউসুফ (আ.) কীভাবে মারা গিয়েছিলেন?
উত্তর: তিনি দীর্ঘ জীবন কাটিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাঁর জন্য উচ্চ মর্যাদা রেখেছেন।

ইউসুফ (আ.) আমাদের কী শিখিয়েছেন?

১। ধৈর্য — কষ্টের মধ্যেও ধৈর্য ধরেছেন
২। ক্ষমা — ভাইদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন
৩। আল্লাহর উপর ভরসা — সব সময় আল্লাহর উপর নির্ভর করেছেন
৪। সততা — সব পরিস্থিতিতে সত্যের পথে থেকেছেন

কুরআনে কোথায় পাব?

১। সম্পূর্ণ কাহিনী → সূরা ইউসুফ (১২)
২। স্বপ্নের ঘটনা → সূরা ইউসুফ (১২)
৩। কারাগারের ঘটনা → সূরা ইউসুফ (১২)

শিশুদের সাথে পড়ুন

সূরা ইউসুফ, আয়াত (৪-১০১)

মজার তথ্য

১। শুধুমাত্র ইউসুফ (আ.)-এর জীবনী একটি সূরাতে ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা আছে।
২। তিনি ছোটবেলায় স্বপ্ন দেখেছিলেন, ১১টি নক্ষত্র এবং সূর্য ও চাঁদ তাকে সিজদা করছে।