হযরত ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) একমাত্র নবী যার পুরো জীবনী একটিমাত্র সুরায় ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা আছে।
তিনি ছিলেন ইয়াক্বুব-রাহীল দম্পতির সন্তান। ১২ ভাইবোনের মধ্যে বাবার সবচেয়ে প্রিয় সন্তান ছিলেন ইউসুফ। তাই সৎ ভাইরা সবসময় তাঁকে হিংসা করতো।
একদিন তাঁরা ইউসুফ (আ.)-কে কুয়ায় ফেলে আসলো এবং বাবাকে ইউসুফের একটি রক্তমাখা জামা দেখিয়ে বললো, “শিয়াল তাঁকে খেয়ে ফেলেছে।”
কিছুক্ষণ পরেই এক কাফেলা কুয়াটির পাশে পানি খেতে থামলো। কুয়া থেকে পানি তুলতে গিয়ে কাফেলাদের একজন কিশোর ইউসুফকে উদ্ধার করলো।
এরপর মিশরের বাজারে খুব অল্প দামে তাঁকে বিক্রি করে দেওয়া হলো। ইউসুফের ক্রেতা তাঁকে পালকপুত্রের মতো বড় করতে লাগলো।
ধীরে ধীরে ইউসুফ যৌবনে পৌঁছালেন এবং এতই সুদর্শন হয়ে উঠলেন যে, একবার তাঁর সৌন্দয্যে বিমোহিত হয়ে মিশরের মহিলারা ফলের বদলে নিজের হাত কেটে ফেলেছিলো।
যৌবনকালে ইউসুফ (আ.) নবুয়ত লাভ করেন। এরপরে তাঁকে নানান ধরনের পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়। বাড়ি মালিকের স্ত্রী এবং তাঁর সৌন্দর্যে বিমোহিত নারীদের দেওয়া মিথ্যা অপবাদ মাথা পেতে নিতে হয়।
কিন্তু তিনি বিচলিত হননি। প্রতি মুহূর্তে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার উপর ভরসা রেখেছেন এবং তাঁর কাছে সাহায্য চেয়েছেন।
মহান আল্লাহ সবসময় তাঁর অনুগত বান্দাদের পুরস্কৃত করেন। তাই মহান আল্লাহর সুপরিকল্পনায় একসময় ইউসুফ (আ.)-এর বিরুদ্ধে উঠা সকল অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয় এবং তিনি মিশরের সর্বোচ্চ মর্যাদাবান ব্যক্তিতে পরিণত হন।
অবশেষে মহান আল্লাহ ইউসুফ (আ.) ও তাঁর পরিবারকে পুনঃমিলিত করেন।
তথ্য:
১। সূরা ইউনুস, আয়াত (৪-১০১) – আল কুরআন সহজ ভাবানুবাদ, শাঈখ হাসান মাহফুজ (অনুবাদক)