ইসহাক্ব (আ.)-এর ছোট ছেলে হযরত ইয়াক্বুব (আলাইহিস সালাম), যিনি ইসরাইল অর্থাৎ আল্লাহর দাস নামেও পরিচিত। ইয়াক্বুব (আ.) বিশ্বের প্রথম নবী, যাঁর দুইটি নাম।
ইয়াক্বুব (আ.) তাঁর একই মামার তিন মেয়েকে বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রী নাম লাইয়া এবং দ্বিতীয় স্ত্রী, রাহীল। সন্তান জন্মদানের সময় রাহীল মারা গেলে ইয়াক্বুব (আ.) তাঁদের আরেক বোনকে বিয়ে করেন।
১২ সন্তানের জনক হলেও ইয়াক্বুব (আ.)-এর একটিমাত্র ছেলে নবী হয়েছিলেন। তিনি হলেন রাহীলের সন্তান, ইউসুফ। তবে ইয়াক্বুব (আ.)-এর বংশে আরো নবীর জন্ম হয়েছিলো।
পর্যায়ক্রমে স্ত্রী রাহীলের দুইপুত্রকে হারিয়ে শোকে-দুঃখে ইয়াক্বুব (আ.)-এর দুই চোখ দৃষ্টিহীন হয়ে সাদা হয়ে গিয়েছিলো। অতঃপর তিনি তাঁর বাকি ছেলেদের বলেন, “তোমরা মিশরে গিয়ে তোমাদের ভাইদেরকে খুঁজে নিয়ে আসো।”
ছেলেরা মিশরে গিয়ে ইউসুফ ও তাঁর ভাইকে খুঁজে পায়। নিজের পরিচয় প্রকাশ করার পর ইউসুফ তাঁর জামা বৈমাত্রেয় (সৎ মায়ের সন্তান) ভাইদের দিয়ে বলেন যে, জামাটা বাবার মুখের উপরে রেখো তাহলে তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন।
এভাবে ইয়াক্বুব (আ.) পুনরায় তাঁর দৃষ্টিশক্তি ও ছেলেদের ফিরে পান।
ইয়াক্বুব (আ.) তাঁর সন্তানদের সবসময় মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার দেখানো পথে চলতে উপদেশ দিতেন। এমনকি মৃত্যুশয্যাতেও তিনি তাঁর সন্তানদের কাছ থেকে ওয়াদা নেন, তারা যেনো সারাজীবন এক আল্লাহর ইবাদত করে।
তথ্য:
১। সূরা হুদ, আয়াত (৭১) – আল কুরআন সহজ ভাবানুবাদ, শাঈখ হাসান মাহফুজ (অনুবাদক)
২। সূরা আল বাকারা, আয়াত (১৩২-১৩৩) – আল কুরআন সহজ ভাবানুবাদ, শাঈখ হাসান মাহফুজ (অনুবাদক)
৩। আলে-ইমরান ৩/৯৩ ; মারিয়াম ১৯/৫৮।
৪। সূরা ইউনুস, আয়াত (৪-১০১) – আল কুরআন সহজ ভাবানুবাদ, শাঈখ হাসান মাহফুজ (অনুবাদক)