হযরত ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)

নুহ (আ.)-এর প্রায় ২০০০ পরে হযরত ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) রাসূল হিসেবে আসেন। ধারণা করা হয়, ইবরাহিম (আ.) নুহ (আ.)-এর ১১তম জেনারেশন।

হযরত ইবরাহিম (আ.)-কে “আবুল আম্বিয়া / নবীগণের পিতা” বলা হয়। কারণ তিনি ইসমাইল (আ.) ও ইসহাক্ব (আ.)-এর বাবা ছিলেন।

ইবরাহিম (আ.)-এর প্রথম সন্তান, ইসমাইলকে জন্মদান করেন বিবি হাজেরা এবং বিবি সারাহ ছিলেন তাঁর দ্বিতীয় সন্তান, ইসহাক্বের মা।

হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর জীবনটা সবচেয়ে বেশি পরীক্ষাময় ছিলো। বাবেল অঞ্চলে ইবরাহিম (আ.) ইসলামের ডাক দিলে তাঁর পিতা তাঁকে অস্বীকার করে।

শুধুমাত্র বিবি সারাহ ও ভাতিজা লুত (আ.) তাঁর ডাকে সাড়া দেন। বাবেলের মূর্তিপূজকদের এক আল্লাহর পথে আনার জন্য ইবরাহিম (আ.) একদিন তাদের মূর্তিগুলো ভেঙে দিলেন।

এই অপরাধে মূর্তিপূজকরা তাঁকে আগুনে পুড়িয়ে মারার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নির্দেশে সেই আগুন ইবরাহিম (আ.)-এর জন্য শীতল ও শান্তিময় হয়ে যায়।

এর পরপরই তিনি কেন’আন-এ হিজরত করেন। সেখানেও ইবরাহিম (আ.) কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হন। কেন’আনে দুর্ভিক্ষ শুরু হয় এবং জীবিকার সন্ধানে তাঁকে মিশরে যেতে হয়।

মিশর থেকে ফিরে আসার পর ইবরাহিম (আ.)-এর নিকট মহান আল্লাহর নির্দেশ আসে, বিবি হাজেরা ও ইসমাইলকে মক্কায় নির্বাসনে রেখে আসতে হবে। এই পরীক্ষাতেও তিনি উত্তীর্ণ হন।

৮০ বছর বয়সে ইবরাহিম (আ.)-কে আরেক পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়। মহান আল্লাহ তাঁকে খৎনা করার হুকুম দেন। সেই হুকুম পালন করতে তিনি নিজেই নিজের খৎনা করেন এবং সেই পরীক্ষাতেও সফল হন।

একদিন ইবরাহিম (আ.) স্বপ্নে দেখলেন, তিনি ইসমাইলকে কুরবানি করছেন। মহান আল্লাহর এই পরীক্ষায় সফলতার সাথে পাশ করা ইবরাহিম (আ.)-এর জন্য সবচেয়ে কঠিন হলেও তিনি আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করেননি।

কুরবানির উদ্দেশ্যে তিনি ইসমাইলকে কাত করে শুইয়ে দিলেন। এমন সময় মহান আল্লাহ ইবরাহিম (আ.)-কে থামিয়ে দিয়ে বললেন, “তুমি তোমার স্বপ্নপূরণ করেছো।”

ইবরাহিম (আ.)-এর এই ত্যাগের উপহার হিসেবে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কুরবানির ঘটনাটি আমাদের মাঝে স্মরণীয় আদর্শ করে রাখলেন এবং জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আমাদের কুরবানি করার নির্দেশ দিলেন।

তথ্য:
১। সূরা হুদ, আয়াত (৭১-৭৩) – আল কুরআন সহজ ভাবানুবাদ, শাঈখ হাসান মাহফুজ (অনুবাদক)
২। সূরা আল আম্বিয়া, আয়াত (৫১-৭২) – আল কুরআন সহজ ভাবানুবাদ, শাঈখ হাসান মাহফুজ (অনুবাদক)
৩। ইবরাহিম ১৪/৩৭; বুখারী ইবনু আববাস (রাঃ) বর্ণিত দীর্ঘ হাদীছের সারসংক্ষেপ; ‘নবীদের কাহিনী’ অধ্যায় হা/৩৩৬৪।
৪। বুখারী, আবু হুরায়রা হ’তে হা/৩৩৫৬, ৬২৯৭; কুরতুবী হা/৬৫১-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য।
৫। সূরা আস সাফ্‌ফাত, আয়াত (৮৫-১১৩) – আল কুরআন সহজ ভাবানুবাদ, শাঈখ হাসান মাহফুজ (অনুবাদক)
৬। সূরা ইবরাহিম, আয়াত (৩৯) – আল কুরআন সহজ ভাবানুবাদ, শাঈখ হাসান মাহফুজ (অনুবাদক)