হযরত লুত (আলাইহিস সালাম)

হযরত লুত (আলাইহিস সালাম) বাবেল অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে চাচা ইবরাহিম (আ.)-এর সাথে কেন’আন অঞ্চলে হিজরত করেন। সেখানেই তিনি নবুয়ত লাভ করেন।

ইসলাম প্রচারের জন্য মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার আদেশে লুত (আ.) কেন’আন থেকে জর্ডানের দিকে যান।

সেখানকার লোকেরা মূর্তিপূজা তো করতোই, সাথে সমকামিতার মতো বিকৃত ও জঘন্যতম পাপাচারেও লিপ্ত ছিলো। এই নির্লজ্জ কাজ ইতিহাসে লুত জাতিই প্রথম করেছিলো।

লুত (আ.) এই সকল পাপীকে দ্বীনের দাওয়াত দিলেন। কিন্তু তারা তাঁর দাওয়াত গ্রহণ করলো না। বরং জালেম নেতারা লুত (আ.) ও তাঁর পরিবারকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে নির্দেশ দিলো।

অতঃপর দুইজন ফেরেশতা ছেলে রূপে লুত (আ.)-এর বাসায় আসলেন।

বললেন, “রাত থাকতে থাকতে আপনি আপনার পরিবার নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যান, আপনি সবার শেষে যাবেন। ভোরে এই এলাকায় মহান আল্লাহর আযাব নাযিল হবে।”

ফেরেশতাদের কথামতো লুত (আ.) নিজের পরিবারের ঈমানদার সদস্যদের নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে গেলেন।

সকাল হতেই লুত জাতি উপর বিকট শব্দে আযাব আসলো। মহান আল্লাহর নির্দেশে লুত (আ.)-এর জনপদ উল্টে দেওয়া হলো এবং তাদের উপর বৃষ্টির মতো পোড়া মাটির পাথর নিক্ষেপ করা হলো।

লুত (আ.) ও তাঁর পরিবার মহান আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা পেলেও তাঁর স্ত্রী এই আযাবের অন্তর্ভুক্ত হলেন। কারণ সে অভিশপ্ত লুত জাতির পক্ষে ছিলো।

তথ্য:
১। সূরা হুদ, আয়াত (৭৭-৮৩) – আল কুরআন সহজ ভাবানুবাদ, শাঈখ হাসান মাহফুজ (অনুবাদক)
২। সূরা আন্‌ নাজ্‌ম, আয়াত (৫৩) – আল কুরআন সহজ ভাবানুবাদ, শাঈখ হাসান মাহফুজ (অনুবাদক)
৩। সূরা আশ শোয়ারা, আয়াত (১৬০-১৭৩) – আল কুরআন সহজ ভাবানুবাদ, শাঈখ হাসান মাহফুজ (অনুবাদক)
৪। সূরা আল হিজর, আয়াত (৬১-৭৪) – আল কুরআন সহজ ভাবানুবাদ, শাঈখ হাসান মাহফুজ (অনুবাদক)