হযরত ছালেহ (আলাইহিস সালাম)

আদ জাতি ধ্বংসের প্রায় ৫০০ বছর পরে হযরত ছালেহ (আলাইহিস সালাম)-কে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়াল নবী হিসেবে পাঠান।

হযরত ছালেহ (আ.) সিরিয়ায় বসবাসকারী ছামুদ জাতির নবী ছিলেন। ছামুদ জাতি বেশ শক্তিশালী ছিলো। এদেরকে বীরের জাতিও বলা হয়।

পাথর খোদাই ও স্থাপত্য বিদ্যায় বেশ পারদর্শী ছিলো এই জাতি। এরা সমতল ভূমিতে বড় বড় দালান তৈরি করতে পারতো। ছামুদ জাতি পাহাড় কেটে বসতবাড়িও তৈরি করেছে।

নবুয়ত লাভের পর রাসূল ছালেহ (আ.) তাঁর পথভোলা জাতিকে ইসলামের দাওয়াত দেন এবং মহান আল্লাহর তরফ থেকে পাঠানো একটি উটনীকে দেখিয়ে বলেন, “একে কখনো সামান্য কষ্টও দিও না।”

ছালেহ (আ.)-এর ডাকে কিছু মানুষ সাড়া দিয়েছিলো। যারা ছালেহ (আ.)-এর কথা শুনে এক আল্লাহর ইবাদত করতে রাজি হয়েছিল, দাম্ভিক-স্বেচ্ছাচারী নেতারা তাদেরকে দুর্বল করে রেখেছিলো।

একদিন দাম্ভিক-স্বেচ্ছাচারী নেতারা ঈমানদারদেরকে ডেকে জানতে চাইলো যে, তারা কি ছালেহ (আ.)-এর কথা বিশ্বাস করে? তারা কি বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই?

ঈমানদার ব্যক্তিরা দৃঢ়কণ্ঠে হ্যাঁ-সূচক জবাব দিলো। স্বেচ্ছাচারী নেতারা বললো, “আমরা এসব কখনোই মানবো না।

দাম্ভিক-স্বেচ্ছাচারী নেতারা আল্লাহর অবাধ্য হয়ে উটনীকে মেরে ফেললো এবং দম্ভভরে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার প্রতিটা হুকুম অমান্য করতে লাগলো।

এরপর ছালেহ (আ.)-কে তারা বললো, “যেই আযাবের ভয় তুমি আমাদের দেখাতে, এইবার সেই আযাব নিয়ে আসো।”

অতঃপর মহান আল্লাহর তরফ থেকে একটি প্রলয়ংকারী ভূমিকম্প হলো এবং জালেম ছামুদরা নিজের ঘরেই মুখ থুবড়ে পড়ে থাকলো।

অবশেষে ছালেহ (আ.) সেই এলাকা ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে গেলেন।

ছামুদী স্থাপনার ধ্বংসস্তুপে ইরামী ও ছামুদী শিলালিপি খোদাই করা রয়েছে। বর্তমানে এই শিলালিপিগুলো নিয়ে গবেষণা চলছে। এগুলোর অর্থ জানা গেলে, ছামুদ ও আদ জাতির ইতিহাস সম্পর্কে আরো সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

তথ্য:
১। তারীখুল আম্বিয়া ১/৪৯ পৃষ্ঠা
২। সূরা আল আ’রাফ, আয়াত (৭৪-৭৯) – আল কুরআন সহজ ভাবানুবাদ, শাঈখ হাসান মাহফুজ (অনুবাদক)