হযরত আদম (আলাইহিস সালাম)

নবী পরিচিতি

পুরো নাম: হযরত আদম (আলাইহিস সালাম)
পরিচয়: নবী ও রাসুল
উপাধি: আবুল বাশার (মানবজাতির পিতা)
জন্মস্থান: জান্নাত (পরে পৃথিবীতে আগমন)
পিতার নাম: নেই
মাতার নাম: নেই
পরিবার: হাওয়া (আ.) এবং পুরো মানবজাতি
আসমানি কিতাব: সহিফা
যাদের কাছে প্রেরিত: তাঁর সন্তানদের কাছে
কুরআনে উল্লেখ: প্রায় ২৫ বার
সময়কাল: মানবজাতির সূচনাকাল

এক লাইনে পরিচয়

হযরত আদম (আ.) ছিলেন প্রথম মানুষ ও প্রথম নবী, যাঁর মাধ্যমে পৃথিবীতে মানবজাতির সূচনা হয়।

আল্লাহ কেনো তাঁকে নবী বানালেন?

মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মানুষের সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নিলেন, যেনো তারা তাঁর ইবাদত করে। তাই এক জুম’আর দিনে মাটির উপাদান দিয়ে তিঁনি হযরত আদম (আ.)-এর অবয়ব তৈরি করেন এবং তাতে রূহ ফুঁকে দেন।

এভাবেই বিশ্বের প্রথম মানুষ ও নবী হিসেবে আদম (আ.) সৃষ্টি হন।

ছোটবেলার গল্প

আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করার পর মহান আল্লাহ ফেরেশতাদের নির্দেশ দেন যে, আদম (আ.)-কে সিজদা করো।

সব ফেরেশতা আল্লাহর আদেশ মেনে আদম (আ.)-কে সিজদা করেন, কিন্তু অহংকারের কারণে ইবলিস আদম (আ.)-কে সিজদা করতে অস্বীকার করে। ফলে আল্লাহ তাকে সেখান থেকে নামিয়ে দিলেন।

আদম (আ.) ও তাঁর স্ত্রী বিবি হাওয়াকে আল্লাহ জান্নাতে বসবাস করতে বললেন কিন্তু একটি নির্দিষ্ট গাছের কাছে যেতে নিষেধ করেছিলেন।

শয়তানের কুমন্ত্রণায় পড়ে তাঁরা সেই গাছের ফল খেয়ে ফেলেন। পরবর্তীতে তাঁরা নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান।

বিশেষ মুজিযা

১। কোনো পিতামাতা ছাড়াই মহান আল্লাহ আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন।
২। আল্লাহ তাঁকে অনেক জ্ঞান দিয়েছিলেন, যা ফেরেশতাদেরও ছিল না।

শিশু মনের জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন ১: আদম (আ.)-কে কীভাবে সৃষ্টি করা হয়েছিল?
উত্তর: এক জুম’আর দিনে মহান আল্লাহ মাটির সকল উপাদানের সার-নির্যাস একত্রিত করে আঠালো ও পোড়ামাটির মতো শুষ্ক মাটি দিয়ে আদম (আ.)-এর অবয়ব তৈরি করলেন। এরপর সেই অবয়বে রূহ ফুঁকে দিলেন। এভাবেই আদম (আ.) সৃষ্টি হন।

প্রশ্ন ২: তিনি কেনো জান্নাত থেকে পৃথিবীতে এলেন?
উত্তর: নিষিদ্ধ গাছের ফল খাওয়ার কারণে শাস্তিস্বরূপ মহান আল্লাহ তাঁকে পৃথিবীতে পাঠান।

প্রশ্ন ৩: তাঁর জন্য সবচেয়ে কঠিন কী ছিল?
উত্তর: নিজের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা পাওয়া ছিল আদম (আ.)-এর জীবনের একটি বড় পরীক্ষা।

প্রশ্ন ৪: তিনি আবার কীভাবে জান্নাতে ফিরে গিয়েছিলেন?
উত্তর: আদম (আ.) ও তাঁর স্ত্রীকে পৃথিবীতে পাঠানোর সময় মহান আল্লাহ কথা দিয়েছিলেন যে, তাঁরা যদি আল্লাহর কথামতো চলেন এবং শয়তান থেকে সাবধানে থাকেন তাহলে মৃত্যুর পরে তাঁরা আবারো জান্নাতে যেতে পারবেন। এটি আল্লাহর প্রতিশ্রুতি।

প্রশ্ন ৫: এটা কি সত্য ঘটনা?
উত্তর: এই ঘটনা আল কুরআনে বর্ণিত আছে, যা মুসলমানদের কাছে সত্য।

আদম (আ.) আমাদের কী শিখিয়েছেন?

১। ভুল স্বীকার করা — ভুল করলে তা মেনে নেওয়া উচিত
২। তওবা — আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হয়
৩। আল্লাহর আদেশ মানা — সব সময় আল্লাহর কথা মেনে চলতে হয়
৪। নম্রতা — অহংকার করা উচিত নয়

কুরআনে কোথায় পাব?

১। সৃষ্টি → সূরা বাকারা (২)
২। সিজদার ঘটনা → সূরা আরাফ (৭)
৩। জান্নাত থেকে অবতরণ → সূরা ত্বহা (২০)

শিশুদের সাথে পড়ুন

সূরা বাকারা, আয়াত (৩০-৩৯)

মজার তথ্য

১। তিনি মানবজাতির প্রথম মানুষ।
২। তাঁকে আল্লাহ নিজে সৃষ্টি করেছেন (বিশেষ সম্মান)।
৩। ফেরেশতারা তাঁকে সিজদা করেছিল।
৪। পৃথিবীতে আসার পর তাঁর মাধ্যমেই মানুষের জীবন শুরু হয়।