হযরত হারুন (আলাইহিস সালাম) ছিলেন হযরত মুসা (আ.)-এর আপন ভাই।
মহান আল্লাহ মুসা (আ.)-কে ফেরাউন ও তার জাতির মাঝে ইসলাম প্রচারের নির্দেশ দিলে মুসা (আ.) আল্লাহর দরবারে কিছু দোয়া করলেন। সেগুলোর একটিতে তিনি হারুনকে তাঁর সাহায্যকারী হিসেবে চাইলেন।
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মুসা (আ.)-এর দোয়া কবুল করলেন এবং হারুন (আ.)-কেও রাসূল হিসেবে বাছাই করলেন, যেনো তাঁরা একসাথে ফেরাউন জাতিকে ইসলামের দাওয়াত দিতে পারেন।
মুসা ও হারুন একসাথে ফেরাউনের কাছে গেলেন এবং খুব নম্রভাবে ফেরাউনকে এক আল্লাহর ইবাদত করতে বললেন। কিন্তু ফেরাউন তাঁদের কথা মানলো না। বরং তাঁদের সামনে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলো।
নানান পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েও মুসা-হারুন থামলেন না। ধৈর্য সহকারে ইসলাম প্রচার করতে থাকলেন।
তাওরাত নাযিল করার পূর্বে মহান আল্লাহ মুসা (আ.)-কে ৪০ দিন সকলের থেকে দূরে রেখেছিলেন। এই সময় মুসার জাতির কিছু লোক পথভ্রষ্ট হয়ে একটি বাছুরের পূজা করতে শুরু করে।
হারুন (আ.) এই পথভ্রষ্টদের সাবধান করেন এবং পুনরায় ইসলামের পথে ফেরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁরা মুসা (আ.)-কে না দেখে বাছুর পূজা বন্ধ করতে চাইলো না।
ফিরে এসে নিজের জাতির কর্মকাণ্ড দেখে মুসা (আ.) রাগে ফেটে পড়লেন এবং দারুণভাবে মর্মাহত হলেন। রাগে মুসা তার ভাই হারুনের চুল ধরে টানতে থাকলেন।
হারুন (আ.) ভাইকে আশ্বস্ত করেন যে, তিনি ইসলাম বিরোধী কোনো কাজ করেননি। অতঃপর মুসা (আ.) মহান আল্লাহর কাছে নিজের ও হারুন (আ.)-এর জন্য ক্ষমা চাইলেন।
পরম করুণাময় মহান আল্লাহ তাঁদের ক্ষমা করলেন এবং তাঁরা একইভাবে ইসলাম প্রচার করতে থাকলেন।
তথ্য:
১। সূরা ত্বহা, আয়াত (২৯-৯৭) – আল কুরআন সহজ ভাবানুবাদ, শাঈখ হাসান মাহফুজ (অনুবাদক)
২। সূরা আল আ’আরাফ, আয়াত (১০৩-১৫৫) – আল কুরআন সহজ ভাবানুবাদ, শাঈখ হাসান মাহফুজ (অনুবাদক)
৩। সূরা আশ শোয়ারা, আয়াত (১০-৬৬) – আল কুরআন সহজ ভাবানুবাদ, শাঈখ হাসান মাহফুজ (অনুবাদক)