নবী পরিচিতি
পুরো নাম: হযরত ইয়াক্বুব (আলাইহিস সালাম)
পরিচয়: নবী
উপাধি: ইসরাইল (আল্লাহর বান্দা)
জন্মস্থান: কানআন (বর্তমান ফিলিস্তিন অঞ্চল)
পিতার নাম: হযরত ইসহাক্ব (আ.)
মাতার নাম: (নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই)
পরিবার: যমজ ভাই – ঈছ, ১২ ছেলে – তাঁদের মধ্যে ইউসুফ (আ.) উল্লেখযোগ্য
আসমানি কিতাব: নেই
যাদের কাছে প্রেরিত: বনি ইসরাইল (ইসরাইলের সন্তান)
কুরআনে উল্লেখ: প্রায় ১৬ বার
সময়কাল: প্রাচীন যুগ
এক লাইনে পরিচয়
হযরত ইয়াক্বুব (আ.) ছিলেন ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি নিষ্ঠার এক অনন্য উদাহরণ।
আল্লাহ কেনো তাঁকে নবী বানালেন?
মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সঠিক পথে রাখার জন্য ধাপে ধাপে অনেক নবী-রাসুলকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ইয়াক্বুব (আ.)-ও একজন।
মহান আল্লাহ তাঁকে নবী হিসেবে পাঠালেন যেনো তিনি তাঁর সন্তানদের ও মানুষদের এক আল্লাহর ইবাদতের শিক্ষা দেন।
ছোটবেলার গল্প
ইয়াক্বুব (আ.)-এর ছোটবেলার কোনো ঘটনা কুরআনে নেই, তবে তাঁর জীবনের একটি বিশেষ ঘটনা কুরআনে পাওয়া যায়।
ইয়াক্বুব (আ.)-এর প্রিয় দুই ছেলে, ইউসুফ ও তাঁর আপন ভাইকে হারিয়ে ইয়াক্বুব (আ.) খুব কষ্ট পেয়েছিলেন। তিনি এত কেঁদেছিলেন যে এক সময় তাঁর চোখের দৃষ্টিশক্তি চলে যায়।
তবুও ইয়াক্বুব (আ.) ধৈর্য হারাননি এবং আল্লাহর উপর ভরসা রেখেছিলেন। এই ঘটনার পরে ইউসুফের সাথে তাঁর সৎ ভাইদের দেখা হলে ইউসুফ (আ.) তাঁদের মাধ্যমে নিজের একটি জামা পাঠান।
সেই জামাটি চোখে রাখার পর মহান আল্লাহর ইচ্ছায় ইয়াক্বুব (আ.) আবার তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান।
বিশেষ মুজিযা
১। ইয়াক্বুব (আ.) একবার তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং পুনরায় সেটি ফিরে পেয়েছিলেন।
শিশু মনের জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন ১: ইয়াক্বুব (আ.) কেনো ইউসুফ (আ.)-কে বেশি ভালোবাসতেন?
উত্তর: কারণ ইউসুফ (আ.) সবচেয়ে ভালো ও নেক সন্তান ছিলেন।
প্রশ্ন ২: এত কষ্ট পেয়েও কীভাবে তিনি ধৈর্য ধরেছিলেন?
উত্তর: তিনি জানতেন, মহান আল্লাহ সবকিছু জানেন। তাই তিনি আল্লাহর উপর ভরসা রেখে ধৈর্য ধরেছিলেন।
প্রশ্ন ৩: তাঁর জন্য সবচেয়ে কঠিন কী ছিল?
উত্তর: আদরের পুত্রদেরকে হারানো তাঁর জন্য সবচেয়ে কঠিন ছিল।
প্রশ্ন ৪: এটা কি সত্য ঘটনা?
উত্তর: এই ঘটনাগুলো আল কুরআনে বর্ণিত আছে, যা মুসলমানদের কাছে সত্য।
প্রশ্ন ৫: ইয়াক্বুব (আ.) কীভাবে মারা গিয়েছিলেন?
উত্তর: তিনি দীর্ঘ জীবন কাটিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাঁর জন্য উচ্চ মর্যাদা রেখেছেন।
ইয়াক্বুব (আ.) আমাদের কী শিখিয়েছেন?
১। ধৈর্য — কষ্টের মধ্যেও ধৈর্য ধরা
২। আল্লাহর উপর ভরসা — সব পরিস্থিতিতে আল্লাহর উপর নির্ভর করা
৩। পরিবারের প্রতি ভালোবাসা — সন্তানদের প্রতি যত্নশীল থাকা
কুরআনে কোথায় পাব?
১। ইউসুফ (আ.)-এর ঘটনা → সূরা ইউসুফ (১২)
২। পরিবারের শিক্ষা → সূরা আল বাকারা (২)
৩। নবীদের ধারাবাহিকতা → সূরা মারিয়াম (১৯)
শিশুদের সাথে পড়ুন
সূরা ইউসুফ, আয়াত (৪-১৮)
মজার তথ্য
১। তাঁর ১২ জন ছেলে ছিল, যাদের থেকে বনি ইসরাইল জাতি গঠিত হয়।
২। তাঁর ছেলে ইউসুফ (আ.)-ও একজন নবী ছিলেন।
৩। তিনি দীর্ঘ সময় ধৈর্য ধরে আল্লাহর উপর ভরসা রেখেছিলেন।
৪। তাঁকে “ইসরাইল” বলা হয়।