হযরত ঈসা (আলাইহিস সালাম)

নবী পরিচিতি

পুরো নাম: হযরত ঈসা (আলাইহিস সালাম)
পরিচয়: নবী ও রাসুল
উপাধি: রূহুল্লাহ (আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত রূহ), মাসীহ
জন্মস্থান: বায়তুল মুকাদ্দাস অঞ্চল (বর্তমান ফিলিস্তিন)
পিতার নাম: নেই
মাতার নাম: বিবি মরিয়ম (আ.)
পরিবার: (নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই)
আসমানি কিতাব: ইনজিল
যাদের কাছে প্রেরিত: বনি ইসরাইল
কুরআনে উল্লেখ: প্রায় ২৫ বার
সময়কাল: প্রাচীন যুগের শেষাংশ

এক লাইনে পরিচয়

হযরত ঈসা (আ.) ছিলেন সেই নবী, যিনি পিতা ছাড়াই জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং এখনো বেঁচে আছেন।

আল্লাহ কেনো তাঁকে নবী বানালেন?

সেই সময় বনি ইসরাইলের অনেক মানুষ আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরে গিয়েছিল এবং ইসলামের সত্যকে অস্বীকার করছিল।

মহান আল্লাহ মানুষকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে চাইলেন। তাই তিনি ঈসা (আ.)-কে নবী ও রাসুল হিসেবে পাঠালেন, যেনো তিনি মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের দাওয়াত দেন এবং সত্যের পথে ফিরিয়ে আনেন।

ছোটবেলার গল্প

হযরত ঈসা (আ.)-এর জন্ম ছিল এক অলৌকিক ঘটনা। মহান আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি পিতা ছাড়াই জন্মগ্রহণ করেন।

মানুষ যখন বিবি মরিয়মকে তার কোলের শিশু ঈসার ব্যাপারে প্রশ্ন করল, তখন আল্লাহর ইচ্ছায় ঈসা (আ.) কথা বলতে শুরু করলেন। তিনি বললেন, “আমি আল্লাহর বান্দা… আমাকে নবী করে পাঠানো হয়েছে।”

একদম কোলের শিশুকে কথা বলতে দেখে মানুষ অবাক হয়ে যায়।

বিশেষ মুজিযা

১। মহান আল্লাহর ইচ্ছায় ঈসা (আ.) পিতা ছাড়া জন্মগ্রহণ করেন।
২। আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি মৃত মানুষকে জীবিত করতে পারতেন।
৩। তিনি আল্লাহর অনুমতিতে অন্ধ ও কুষ্ঠরোগীদের সুস্থ করতেন।
৪। মায়ের কোলে থাকা অবস্থায় তিনি মানুষের সাথে কথা বলেছিলেন।

শিশু মনের জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন ১: তিনি কীভাবে পিতা ছাড়াই জন্মগ্রহণ করেছিলেন?
উত্তর: মহান আল্লাহর জন্য কিছুই অসম্ভব নয়। আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি পিতা ছাড়াই জন্মগ্রহণ করেন।

প্রশ্ন ২: তিনি কি সত্যিই মৃত মানুষকে জীবিত করতেন?
উত্তর: হ্যাঁ, মহান আল্লাহর অনুমতিতে তিনি এই মুজিযা দেখিয়েছিলেন।

প্রশ্ন ৩: তাঁর জন্য সবচেয়ে কঠিন কী ছিল?
উত্তর: মানুষকে সত্যের পথে ফিরিয়ে আনা এবং অবিশ্বাসীদের বিরোধিতা সহ্য করা ঈসা (আ.)-এর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

প্রশ্ন ৪: এটা কি সত্য ঘটনা?
উত্তর: এই ঘটনাগুলো আল কুরআনে বর্ণিত আছে, যা মুসলমানদের কাছে সত্য।

প্রশ্ন ৫: ঈসা (আ.) কীভাবে মারা গিয়েছিলেন?
উত্তর: ঈসা (আ.) মারা যাননি। মহান আল্লাহ তাঁকে আকাশে তুলে নিয়েছেন এবং কিয়ামতের আগে তিনি আবার পৃথিবীতে আসবেন।

ঈসা (আ.) আমাদের কী শিখিয়েছেন?

১। আল্লাহর উপর ভরসা — সব কিছু আল্লাহর ইচ্ছায় হয়
২। দয়া — মানুষকে সাহায্য করা
৩। সত্য বলা — সত্যের পথে থাকা
৪। ধৈর্য — কষ্টের মধ্যেও ধৈর্য ধরা

কুরআনে কোথায় পাব?

১। জন্মের ঘটনা → সূরা মরিয়ম (১৯)
২। মুজিযা → সূরা আলে ইমরান (৩)
৩। আকাশে উঠানো → সূরা আন নিসা (৪)