হযরত ইলিয়াস (আলাইহিস সালাম)

নবী পরিচিতি

পুরো নাম: হযরত ইলিয়াস (আলাইহিস সালাম)
পরিচয়: নবী ও রাসুল
উপাধি: আল্লাহর নিবেদিত বান্দা
জন্মস্থান: শাম অঞ্চল (বর্তমান সিরিয়া)
পিতার নাম: (নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই)
মাতার নাম: (নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই)
পরিবার: (নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই)
আসমানি কিতাব: নেই
যাদের কাছে প্রেরিত: বনি ইসরাইল
কুরআনে উল্লেখ: প্রায় ২ বার
সময়কাল: প্রাচীন যুগ

এক লাইনে পরিচয়

হযরত ইলিয়াস (আ.) মানুষকে বা’ল নামক মূর্তির পূজা ছেড়ে এক আল্লাহর ইবাদত করার দাওয়াত দিয়েছিলেন।

আল্লাহ কেনো তাঁকে নবী বানালেন?

সেই সময় বনি ইসরাইলের অনেক মানুষ বা’ল মূর্তি পূজায় লিপ্ত হয়ে পড়েছিল এবং সত্যের পথ থেকে দূরে সরে গিয়েছিল।

মহান আল্লাহ তাঁদেরকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে চাইলেন। তাই তিনি ইলিয়াস (আ.)-কে নবী ও রাসুল হিসেবে পাঠালেন, যেনো তিনি মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের দাওয়াত দেন।

ছোটবেলার গল্প

হযরত ইলিয়াস (আ.)-এর ছোটবেলার কোনো ঘটনা কুরআনে পাওয়া যায় না, তবে তাঁর দাওয়াতের একটি ঘটনা উল্লেখ আছে।

তিনি তাঁর জাতিকে বলতেন, “তোমরা কি মহান স্রষ্টা আল্লাহকে ছেড়ে নিজেদের বানানো বা’লের পূজা করবে? অথচ আল্লাহই তোমাদের বাপ-দাদাদের আসল প্রতিপালক!”

কিন্তু তাঁর জাতির অনেকেই তাঁর কথা মানেনি। তারা বা’লের পূজাই চালিয়ে যেতে থাকে। তবুও ইলিয়াস (আ.) ধৈর্য ধরে মানুষকে সত্যের পথে ডাকতে থাকেন।

বিশেষ মুজিযা

১। তিনি মানুষকে মূর্তি পূজা থেকে সত্যের পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন।
২। মানুষ তাঁর কথা না শুনলেও তিনি ধৈর্য সহকারে ইসলামের দাওয়াত চালিয়ে যান।

শিশু মনের জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন ১: তিনি মানুষকে কী বলতেন?
উত্তর: তিনি মানুষকে বলতেন, “তোমাদের বানানো মূর্তি, বা’লের পূজা বাদ দিয়ে এক আল্লাহর ইবাদত করো।”

প্রশ্ন ২: মানুষ কেনো তাঁর কথা শুনেনি?
উত্তর: কিছু মানুষ তাদের পুরোনো অভ্যাস ছাড়তে চাইত না তাই তারা মূর্তি পূজাই চালিয়ে যেতে চাইত।

প্রশ্ন ৩: তাঁর জন্য সবচেয়ে কঠিন কী ছিল?
উত্তর: এক আল্লাহর ইবাদত করার জন্য মানুষকে বোঝানো কঠিন ছিল, কারণ তারা সত্য মানতে চাইত না।

প্রশ্ন ৪: এটা কি সত্য ঘটনা?
উত্তর: এই ঘটনাগুলো আল কুরআনে বর্ণিত আছে, যা মুসলমানদের কাছে সত্য।

প্রশ্ন ৫: ইলিয়াস (আ.) কীভাবে মারা গিয়েছিলেন?
উত্তর: তিনি দীর্ঘ জীবন কাটিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাঁর জন্য উচ্চ মর্যাদা রেখেছেন।

ইলিয়াস (আ.) আমাদের কী শিখিয়েছেন?

১। সত্যের দাওয়াত — সব সময় মানুষকে সঠিক পথে ডাকতে হয়
২। ধৈর্য — কষ্টের মধ্যেও ধৈর্য ধরতে হয়
৩। আল্লাহর উপর ভরসা — সব সময় আল্লাহর উপর নির্ভর করা

কুরআনে কোথায় পাব?

১। দাওয়াতের ঘটনা → সূরা আস্‌ সাফ্‌ফাত (৩৭)
২। নবীদের উল্লেখ → সূরা আল আনআম (৬)

শিশুদের সাথে পড়ুন

সূরা আস্‌ সাফ্‌ফাত, আয়াত (১২৩-১৩২)

মজার তথ্য

১। তিনি একজন ধৈর্যশীল নবী ছিলেন।
২। তিনি “বা’ল” নামের মূর্তির পূজা থেকে মানুষকে দূরে থাকতে বলতেন।