হযরত সুলাইমান (আলাইহিস সালাম) দাউদ (আ.)-এর পুত্র ছিলেন। পিতা মারা যাওয়ার পর সুলাইমান (আ.) তাঁর সিংহাসনে বসেন।
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা দাউদ (আ.)-এর মতো সুলাইমান (আ.)-কেও বিশেষ কিছু ক্ষমতা দান করেছিলেন।
তিনি পাখি ও পিঁপড়ার ভাষা বুঝতে পারতেন। তাই মহান আল্লাহর ইচ্ছায় মানুষ, জিন ও পাখির সমন্বয়ে সুলাইমান (আ.)-এর সেনাবাহিনী তৈরি হয়েছিলো।
একবার সুলাইমান (আ.) তাঁর পাখি বাহিনী পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে দেখলেন, হুদহুদ পাখিটি নেই। কিছুক্ষণ পর হুদহুদ ফিরে এসে জানালো, “দূরের সাবা দেশে এক রাণী আছে, যে সূর্যের উপাসনা করে।”
এই খবর শুনে রাসূল সুলাইমান (আ.) এক আল্লাহর ইবাদতের দাওয়াত দিয়ে সেই রাণীর কাছে একটি চিঠি পাঠালেন।
প্রথমে রাণী ইসলামের দাওয়াত গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেও পরে সে সুলাইমান (আ.)-এর সাথে দেখা করতে চাইলো।
বাদশাহ সুলাইমান (আ.)-এর প্রাসাদে তাঁর সাথে দেখা করতে এসে রাণী সত্য বুঝতে পারলো এবং এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস আনলো।
মহান আল্লাহ সুলাইমান (আ.)-কে তামা গলিয়ে ব্যবহার করার জ্ঞান দিয়েছিলেন। বাতাসের উপরেও সুলাইমান (আ.)-এর নিয়ন্ত্রণ দিয়েছিলেন।
বাতাস সুলাইমান (আ.)-এর নির্দেশে চলতো। তাই তাঁর নৌবহর এক মাসের পথ এক সকাল অথবা এক বিকাল মধ্যেই অতিক্রম করতে পারতো।
সুলাইমান (আ.) জিনদের দিয়ে অনেক কাজ করাতেন। কোনো জিন তাঁর কথা অবাধ্য হলে মহান আল্লাহ তাকে আগুনে নিক্ষেপ করে শাস্তি দিতেন।
সুলাইমান (আ.) কখন মারা যান, কেউ বুঝতে পারেনি। সুলাইমান (আ.)-এর ভর দিয়ে দাঁড়ানো লাঠিটি ঘুণপোকা খেয়ে ফেললে তিনি মাটিতে পড়ে যান। তখন সবাই বুঝতে পারে যে, তিনি মারা গেছেন।
এত বড় রাজত্ব ও ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সুলাইমান (আ.) কখনো অহংকার করেননি। বরং সবসময় বলতেন,
“এটি আমার রবের অনুগ্রহ।”
তথ্য:
১। সূরা আস্ সাবা, আয়াত (১২-১৬) – আল কুরআন সহজ ভাবানুবাদ, শাঈখ হাসান মাহফুজ (অনুবাদক)
২। সূরা আল আম্বিয়া, আয়াত (৭৮-৮২) – আল কুরআন সহজ ভাবানুবাদ, শাঈখ হাসান মাহফুজ (অনুবাদক)
৩। সূরা আন নামল, আয়াত (১৫-৪৪) – আল কুরআন সহজ ভাবানুবাদ, শাঈখ হাসান মাহফুজ (অনুবাদক)