হযরত যাকারিয়া (আলাইহিস সালাম)

নবী পরিচিতি

পুরো নাম: হযরত যাকারিয়া (আলাইহিস সালাম)
পরিচয়: নবী
উপাধি: নেই
জন্মস্থান: বায়তুল মুকাদ্দাস অঞ্চল
পিতার নাম: (নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই)
মাতার নাম: (নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই)
পরিবার: স্ত্রী, ছেলে – ইয়াহিয়া (আ.)
আসমানি কিতাব: নেই
যাদের কাছে প্রেরিত: বনি ইসরাইল
কুরআনে উল্লেখ: প্রায় ৭ বার
সময়কাল: প্রাচীন যুগের শেষাংশ

এক লাইনে পরিচয়

আল্লাহর কাছে আন্তরিক দোয়া করলে তা কবুল হয়; এর একটি বিশেষ উদাহরণ হযরত যাকারিয়া (আ.)।

আল্লাহ কেনো তাঁকে নবী বানালেন?

মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সঠিক পথে রাখার জন্য বিভিন্ন সময়ে নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে যাকারিয়া (আ.) একজন।

তাই বলা যায়, মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের শিক্ষা দেওয়ার জন্য মহান আল্লাহ যাকারিয়া (আ.)-কে নবী হিসেবে পাঠিয়েছেন

ছোটবেলার গল্প

হযরত যাকারিয়া (আ.)-এর জীবনের কিছু ঘটনা কুরআনে পাওয়া যায়। সেগুলো হচ্ছে-

একসময় তিনি আল্লাহর কাছে একটি নেক সন্তানের জন্য দোয়া করলেন। যদিও তখন তিনি বয়স্ক হয়ে গিয়েছিলেন কিন্তু মহান আল্লাহ তাঁকে ইয়াহিয়া (আ.) নামের এক নেক সন্তান দান করেন।

এই বয়সে তাঁর সন্তান হবে শুনে তিনি বেশ অবাক হয়ে গিয়েছিলেন এবং মহান আল্লাহকে বলেছিলেন, আমাকে একটি নিদর্শন দেখাও।

সেই নিদর্শন স্বরূপ, মহান আল্লাহ ৩ দিনের জন্য তাঁর কথা বলার সক্ষমতা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এই সময়ও তিনি ইশারায় তাঁর অনুসারীদেরকে মহান আল্লাহর ইবাদত করতে বলেন।

বিশেষ মুজিযা

১। বৃদ্ধ বয়সে স্বাভাবিক নিয়মে সন্তান লাভ করেছিলেন।
২। ৩ দিন তিনি কথা বলতে পারেন না।

শিশু মনের জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন ১: তিনি কেনো সন্তান চেয়েছিলেন?
উত্তর: তিনি চেয়েছিলেন, তাঁর পরে কেউ যেনো মহান আল্লাহর ইবাদত করে এবং মানুষকে ইসলামের পথে ডাকতে পারে।

প্রশ্ন ২: এত বয়সে কীভাবে তাঁর সন্তান হলো?
উত্তর: মহান আল্লাহর জন্য কিছুই অসম্ভব নয়। এটি মহান আল্লাহর একটি বিশেষ নিয়ামত ছিল।

প্রশ্ন ৩: তাঁর জন্য সবচেয়ে বিশেষ কী ছিল?
উত্তর: যাকারিয়া (আ.)-এর দোয়া কবুল হওয়া তাঁর জীবনের একটি বিশেষ ঘটনা ছিল।

প্রশ্ন ৪: এটা কি সত্য ঘটনা?
উত্তর: এই ঘটনাগুলো আল কুরআনে বর্ণিত আছে, যা মুসলমানদের কাছে সত্য।

প্রশ্ন ৫: যাকারিয়া (আ.) কীভাবে মারা গিয়েছিলেন?
উত্তর: কুরআনে তাঁর মৃত্যুর বিস্তারিত উল্লেখ নেই।

যাকারিয়া (আ.) আমাদের কী শিখিয়েছেন?

১। দোয়া — আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করলে তা পূরণ হয়
২। আশা — কখনো আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া উচিত নয়
৩। আল্লাহর উপর ভরসা — সব সময় আল্লাহর উপর নির্ভর করা উচিত

কুরআনে কোথায় পাব?

১। দোয়ার ঘটনা → সূরা মরিয়ম (১৯)
২। সুসংবাদ → সূরা আলে ইমরান (৩)

শিশুদের সাথে পড়ুন

সূরা মরিয়ম, আয়াত (২-১৫)

মজার তথ্য

১। যাকারিয়া (আ.) বায়তুল মুকাদ্দাস দেখাশোনা করতেন।
২। তিনি ঈসা (আ.)-এর মা, বিবি মরিয়মের দেখাশোনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন।
৩। তাঁর ছেলের নাম মহান আল্লাহ নির্ধারণ করেছিলেন।